১৮ দলের সমন্বয়ে যাত্রা শুরু নতুন রাজনৈতিক জোট ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’

 

চেয়ারম্যান: ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ
মুখপাত্র: এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার

ঢাকা, সোমবার — ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতীয় পার্টি–জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে প্রধান উপদেষ্টা, জাতীয় পার্টি–জাপার চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে চেয়ারম্যান এবং জাপা মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারকে মুখপাত্র করে ১৮টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জোট ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (জাগফ)’।

সোমবার সকালে রাজধানীর গুলশানের ইমানুয়েলস সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। নতুন জোটে ছয়টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন

জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, সিনিয়র চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, কো–চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সাহিদুর রহমান টেপা, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, লিয়াকত হোসেন খোকা, মোস্তফা আল মাহমুদ, জহিরুল ইসলাম জহির।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন—

জনতা পার্টি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার মিলন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের চেয়ারম্যান সাবেক এমপি শাহ মো. আবু জাফর

বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের সভাপতি আবু লায়েস মুন্না

তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব মেজর (অব.) ডা. হাবিবুর রহমান

গণফ্রন্টের মহাসচিব আহমেদ আলী শেখ

বাংলাদেশ মুসলিম লীগের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ

জাতীয় ইসলামী মহাজোটের চেয়ারম্যান আবু নাসের এম ওয়াহেদ ফারুক

জাতীয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মেজর (অব.) আমীন আহমেদ আফসারি

ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান এম আশিক বিল্লাহ

অ্যালায়েন্স ডেমোক্রেটিক পার্টি (এডিপি)–র চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম আর করিম

গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান এম আর এম জাফর উল্লাহ চৌধুরী

বাংলাদেশ স্বাধীনতা পার্টির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু

বাংলাদেশ স্বাধীন পার্টির চেয়ারম্যান মির্জা আজম

ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান নারায়ণ কুমার দাস

কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন—
ব্রিটিশ হাইকমিশনের রাজনৈতিক কাউন্সিলর মি. টিম ডাকেট,
মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধি কামরুল হাসান খান,
ব্রুনাই মিশন প্রধান মি. রোজাইমি আবদুল্লাহ,
ভারতীয় উচ্চ কমিশনের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মিস পুজা ঝা,
এফিসাসের কাজী শহীদুল ইসলাম।

ঘোষণাপত্র পাঠ ও বক্তব্য

জোটের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও জোটের মুখপাত্র এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন—
“হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ছিলেন দেশের শ্রেষ্ঠ সংস্কারক। তাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পূর্ণ হয় না। তিনি ১৯৮৬ সালে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে নির্বাচন দিয়েছিলেন। আজও সেই কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এজন্য আমাদের লড়াই অব্যাহত।”

তিনি আরও বলেন—
“আমরা আশা করি প্রধান উপদেষ্টা সকল দলকে নিয়ে একটি সুস্থ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করবেন। কোনো দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে সেই সরকার স্থায়ী হবে না— ইতিহাস এটাই প্রমাণ করেছে।”

হাওলাদার মুক্তিযুদ্ধ, সশস্ত্র বাহিনী ও দেশের প্রতি শ্রদ্ধার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন—
“১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে আমরা যুদ্ধে গিয়েছিলাম। ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা–বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ ও সশস্ত্র বাহিনীকে অবমাননা করা আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়।”

তিনি বলেন—
“রাজনীতিতে কেউ চির শত্রু নয়, কেউ চির মিত্রও নয়। আমরা সবাই মিলে আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে পারি— যে স্বপ্নের কথা আমাদের নেতা এরশাদ সবসময় বলেছেন।”

জাতীয় পার্টির অন্যান্য নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি

প্রেসিডিয়াম সদস্য—
বেগম নাসরিন জাহান রত্না, ফখরুল ইমাম, মাসরুর মাওলা, নাজমা আক্তার, ব্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন, জিয়াউল হক মৃধা, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া, আরিফুর রহমান খান, সরদার শাজাহান, মোবারক হোসেন আজাদ, ফখরুল আহসান শাহজাদা, বেলাল হোসেন, নুরুল ইসলাম ওমর, নাজনিন সুলতানা, আমানত হোসেন আমানত, জাহাঙ্গীর আলম পাঠান, শাহ জামাল রানা, শেখ মতলব হোসেন লিয়নসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ।

বার্তা প্রেরক

এম এ রাজ্জাক খান
দফতর সম্পাদক, জাতীয় পার্টি
মোবাইল: ০১৭১২–৫৮৩৬৬৪

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

রিলেটেড আপডেট